হক আমীন
মানব সমাজে শিয়াল “শিয়াল পন্ডিত” হিসেবে পরিচিত। ছোটবেলায় “শিয়াল পন্ডিত” এর কৃর্তি কলাপ নিয়ে নানা রূপকথার গল্প শুনেছি। মজা পেয়েছি, আবার বাস্তবে সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের চারপাশে শোনা যেত ‘কী কী হুক্কা হুয়া’ ডাক, যা গ্রামীন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কখনও গভীর রাতে, কখনও আবার গৃহস্থের হাঁস-মুরগীর খোঁজে শিয়ালের উপস্থিতি যেন ছিল সর্বত্র।
কিন্তু সময় বদলেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রকৃতির সেই পরিচিত প্রাণীটি আজ ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামবাংলার মাঠ, ঘাট, বন, আর ঝোপঝাড়ে এখন আর আগের মতো দেখা মেলে না শিয়ালের।
শিয়ালের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে একাধিক কারন। সবচেয় বড় কারন হল বাসস্থান সঙ্কট। দিন দিন বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে, ঝোপঝাড় কেটে ফেলা হচ্ছে, নতুন নতুন বসতি স্থাপন হচ্ছে। ফলে শিয়ালের স্বাভাবিক বাসস্থান হারিয়ে যাচ্ছে।
কখনও ফাঁদ পেতে শিয়ালকে হত্যা করা হয়। এতেও শিয়ালের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিয়াল শুধু একটি প্রানী নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতিরও একটি অংশ। ছোটবেলায় গল্পে, রূপকথায়, উপকথায় শিয়ালকে দেখা যায় বুদ্ধিমান, ধূর্ত হিসেবে। শিয়াল পন্ডিত নামে বহু গল্প আজও শিশুদের মনে জায়গা করে আছে। এই প্রানীটি হারিয়ে গেলে শুধু প্রকৃতির ভারসাম্যই নষ্ট হবে না, হারিয়ে যাবে আমাদের ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও।
একসময় যে শিয়ালের ডাক গ্রামবাংলার রাতকে জীবন্ত করে তুলত। আজ তা অনেকটাই নি:শব্দ। প্রকৃতির এই বুদ্ধিমান প্রাণীটিকে বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে ভবিষ্যত প্রজন্ম হয়তো শুধু বইয়ের পাতায় শিয়াল পন্ডিত এর গল্প পড়বে।


