কুষ্টিয়া সংবাদদাতাঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফের ঘরে তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রাবেয়া খাতুন (৩৯) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রাবেয়া খাতুন উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রাম এলাকার ভ্যানচালক মকছেদ আলীর স্ত্রী।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন রাবেয়া খাতুন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার আকুব্বর শেখের দুই ছেলে শরিফ হোসেন (২৬), রাকিবুল ইসলাম এবং চাঁদ আলীর ছেলে আসাদুল হোসেন (৩০) সহ তাদের সহযোগীরা রাবেয়ার উপর হামলা চালায়। অভিযুক্তরা সম্পর্কে নিহতের আপন ভাতিজা।
নিহতের স্বামী মকছেদ আলী বলেন, ভাতিজাদের না জানিয়ে ছেলের বউকে বাড়ি নিয়ে আসায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। শনিবার তারা এসে হুট করে আমার স্ত্রীর উপর হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। পরে রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়ার পর আমার স্ত্রী মারা যায়। আমি এর বিচার চাই।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই সাইদুল রহমান বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত রাকিবুলের স্ত্রী আর্জিনা খাতুন ও শরিফের স্ত্রী কাজলী খাতুন দাবি করেন, তালাক দেওয়া বউকে কাউকে না জানিয়ে ঘরে তোলায় কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারি হয়। তবে আমাদের স্বামীরা কাউকে হত্যা করেনি। বরং এ ঘটনায় তারাও আহত হয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, তালাক দেওয়া পুত্রবধূকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত রাবেয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।


