আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলাবাসী। প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিন কমপক্ষে দেড়—দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিং বেশি হয়। উপজেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ব্যাহত হচ্ছে লেখাপড়া, ব্যবসা—বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিপাকে পড়ছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরাও।
জানা যায়, আবাসিক এলাকার বাসিন্দাসহ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল গৃহস্থালির কাজে ব্যাঘাত ঘটায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসা বাড়ি ও বিভিন্ন সরকারি—বেসরকারি অফিসে নষ্ট হচ্ছে কর্ম ঘণ্টা। প্রচন্ড গরমে যখনই জনজীবন নাভিশ্বাস, ঠিক তখনই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অতিরিক্ত লোডশেডিং। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সাধারণ মানুষ।
সান্তাহার পৌর এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন জানান, এভাবে আর কতদিন চলবে? প্রচন্ড গরমের মধ্যে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। আমরা নিয়মিত বিদ্যুতের বিল দিই, কিন্তু প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ পাই না। দিনে—রাতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় চার্জার চালিত ভ্যানচালক জাকির হোসেন বলেন, রাতে ঠিকমতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারি না। তাই সকালে বের হলেও দুপুরের আগেই ভ্যান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হয়। আগে ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন ৪০০ টাকাও হয় না। সংসারে বউ—বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
জানতে চাইলে সান্তাহার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো লিমিটেডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ¦ল আলী জানান, আমরা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক পাচ্ছি। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর লোডশেডিং দিয়ে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায় রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।


