জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের কালাইয়ে কিডনি কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাতে বগুড়া সদর থানার পৌর পার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আব্দুস সাত্তার কালাই উপজেলার বহুতি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার খলিফার ছেলে। কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার খুকশিয়া গ্রামের আব্দুল কাফির ছেলে মন্টূ মিয়া গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের আমলি ৫ নম্বর আদালতে কিডনি কেনাবেচার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আর্থিক সংকটে থাকা মন্টূ মিয়াকে কিডনি বিক্রির বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। পরে তাঁকে ঢাকায় নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পাশাপাশি পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে গধৎরব ঈরঃু ঐড়ংঢ়রঃধষ-এ ভর্তি করার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কিডনি অপসারণ করা হয়।
কয়েক দিন হাসপাতালে রাখার পর মন্টূ মিয়াকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে চুক্তি অনুযায়ী বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাইলে আসামিরা টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে টালবাহানা করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, কালাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র ও ঋণগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে কিডনি বিক্রিতে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়ভাবে কিডনি কেনাবেচার নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে মাত্রাই ইউনিয়নের ভেরেন্ডি, উলিপুর, সাতার, কুসুমসাড়া, অনিহার, ভাউজাপাতার, শিবসমুদ্র, পাইকশ্বর ও ইন্দাহার; উদয়পুর ইউনিয়নের বহুতি, মোহাইল, থল, বাগইল, মাস্তর, জয়পুর বহুতি, নওয়ানা বহুতি, দুর্গাপুর, উত্তর তেলিহার, ভুষা, কাশিপুর, বিনইল ও পূর্বকৃষ্টপুর এবং আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের রাঘবপুর, বোড়াই, হারুঞ্জা, নওপাড়া ও বালাইট গ্রামে।
মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯-এর ৯ ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। একই আইনের ১০(১) ধারায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি, ক্রয় বা এ কাজে সহায়তার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে কিডনি কেনাবেচার মামলাটি গ্রহণের পর এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বগুড়া সদর থানা এলাকার পৌর পার্ক থেকে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিডনি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


