সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ জোনে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা থেকে গতকাল শুক্রবার জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ওই দিন স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক হতাহত হন।
মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়েছে, ঞযব ঝযরঢ় ইৎবধশরহম ধহফ জবপুপষরহম জঁষবং-২০১১ অনুযায়ী দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে। এতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ইঝইজঅ) প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নুরুন নাহার কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দুর্ঘটনার মূল কারণ খতিয়ে দেখবে কমিটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার স্থান, পরিস্থিতি ও মূল কারণ উদঘাটন করবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো অবহেলা কিংবা গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (চচঊ) ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং ইয়ার্ডে চচঊ ব্যবস্থাপনা যথাযথ ছিল কি না—তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
এ ছাড়া আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসায় ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো অদক্ষতা বা অবহেলা ছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ঊসবৎমবহপু জবংঢ়ড়হংব ঞবধস ছিল কি না, তা যাচাই করবে কমিটি।
ইয়ার্ডে নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ইয়ার্ড ইনচার্জ, শিপ ইনচার্জ, কাটিং ফোরম্যানসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল ছিল কি না এবং তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা যথাযথ ছিল কি না—সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার বিষয়েও তদন্ত দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারকে শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে কি না এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চিকিৎসায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়ার পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো বিষয় অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ অফিস আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।


