বরেন্দ্রকষ্ঠ ডেস্কঃ
চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগের মতো একাধিক ধাপে নয়, এক ধাপেই ভর্তির আবেদন নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মাইগ্রেশন বা আবেদন করা কলেজ পরিবর্তনের সুযোগও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। তবে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পরই নতুন নিয়মগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রথম ধাপেই একবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফলে কলেজ পছন্দের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হতে হবে। কারণ একবার আবেদন করার পর মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দ পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।
তবে পুনর্নিরীক্ষণের পর ফল পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে পুনরায় আবেদনের সুযোগ রাখা হতে পারে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী কলেজ না পেলে, ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে কিংবা কোনো কারণে ভর্তির প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়লে তাকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দ্রুত শেষ হবে ভর্তি কার্যক্রম
গত কয়েক বছর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য সেপ্টেম্বরের শুরুতেই অনলাইন ভর্তি আবেদন শুরু করে একই মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ শ্রেণির নিয়মিত ক্লাস শুরু হতে পারে। পুনর্নিরীক্ষণের পর যারা পুনরায় আবেদন করে কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন, তাদেরও ১ অক্টোবরের মধ্যে ক্লাসে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে নতুন নীতিমালা জারি করা হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লাস শুরু করা গেলে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা কমবে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠদানও আগেভাগে শুরু করা সম্ভব হবে।


