সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করেই জাহাজ কাটার অভিযোগে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ পদ্ধতির আওতায় ফেরদৌস স্টিলের পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি জাহাজ কাটার সময় গ্যাসের বিষক্রিয়ায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিদর্শন ও তদন্তে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না করেই ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উঠে আসে। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের শুনানিতে ডেকে নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন বলেন, ইয়ার্ড মালিকের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে তারা আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা যাবে না। নির্দেশনা অমান্য করে কার্যক্রম চালানো হলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়েরসহ কোম্পানিটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন পর পরিবেশগত ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো। এখন প্রশ্ন উঠেছে—পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না থাকা অবস্থায় কীভাবে ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম চলছিল এবং এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না।


