রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত পলাশ মিয়া (২৭) নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলা দায়েরের মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারি এলাকা থেকে মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সারাই ইউনিয়নের আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত সাদুল্ল্যাহর ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অংশীদারি সম্পত্তির এক শতাংশ জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে পলাশের সঙ্গে মোজাহার আলীর বিরোধের সূত্রপাত। গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় সাহেবগঞ্জ বাজারে জমি কেনার বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পলাশের চাচা জাফর ঘটনাস্থলে গিয়ে মোজাহার আলীকে চড়-থাপ্পড় দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি মোজাহার আলী তাঁর দুই ছেলে সাব্বির ও সজিবসহ স্বজনদের জানান। ওই রাতেই পলাশ তাঁর মাকে সঙ্গে নিয়ে সাহেবগঞ্জ মাছের বাজারে টাকা আনতে গেলে মোজাহারের আত্মীয় সোনা মিয়া তাঁকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। আত্মরক্ষায় পলাশ দৌড়ে তিনমাথা মোড়ের বাজারে গেলে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মোজাহার আলী, তাঁর ছেলেরা ও সহযোগীরা লোহার রড, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। ছেলেকে বাঁচাতে পলাশের মা ও মেজ ভাই আশরাফুল এগিয়ে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা গুরুতর আহত পলাশকে উদ্ধার করে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বড় ভাই একরামুল হক বাদী হয়ে বুধবার হারাগাছ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩০২, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। হারাগাছ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অশোক চৌহানের নির্দেশনায় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যায় কাচু আলুটারি এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করে। হারাগাছ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. রুহুল আমিন বলেন, “জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পলাশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে ঘটনাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলার প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, “মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করা হয়। সাত ঘণ্টার মধ্যেই মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে যথাযথ পুলিশি নিরাপত্তায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”


