আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসকদের একটি দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে সুস্থ ঘোষণা করার পর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ইমরানকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন মেডিসিন চিকিৎসকসহ একদল চিকিৎসক পরীক্ষা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলে।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট গত মঙ্গলবার তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
এরপর মঙ্গলবার রাতে ইমরানের বোন আজমা খান কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কয়েক মাস পর পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে এটি ছিল তার সাক্ষাৎ।
ইমরানের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সাঁজোয়া যান টহল দেয়।
এদিকে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কারাগারে তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তার আইনজীবীদের দাবি, চোখের সমস্যাসহ বেশ কয়েকটি শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারাগার কর্তৃপক্ষের অবহেলায় ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে আদালতের নির্দেশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে ঘিরে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ প্রকাশ্যে তোলেনি পিটিআই।
সুপ্রিম কোর্ট ইমরানের দলকে হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলন না করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের মতে, এর মাধ্যমে তার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি যাতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
আদালত আরও বলেছেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। চিকিৎসা শেষে কারাগারে ফেরত গেলেও ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।


