বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজঃ
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছেন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে স্থলবন্দর, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
শনিবার সিলেট মহানগর পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছেন। দুই দেশের স্থলবন্দরগুলো আরও কার্যকরভাবে চালুর বিষয়েও তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, স্থলবন্দর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হলে উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ব্যয় বেড়ে যায়।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নে একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতার জন্য একটি পৃথক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এসব প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সরকার।
অন্যদিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও। বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিষয়ে তাদের কিছু সুপারিশ রয়েছে। সরকার এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
শুল্ক নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ক প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য কোনো ব্যবস্থা নয়; বিভিন্ন দেশের ওপরই পারস্পরিক শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাধারণ শুল্কের পাশাপাশি বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ কার্যকর রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম হারের মধ্যে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের আমদানি রপ্তানির চেয়ে বেশি। বিশ্বের অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এমন পরিস্থিতি রয়েছে। তবে দেশের রপ্তানি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তার ভাষায়, রপ্তানি বাড়লে আমদানিও বাড়বে। তাই শুধু রপ্তানি নয়, আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণেরও সামঞ্জস্য থাকা দরকার।
এ ক্ষেত্রে ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। দেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও নির্দেশনা
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, নগরীতে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কোনোভাবেই দেখতে চান না তিনি।
এর আগে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রী। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলা পরিষদ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৮৮ একর জমিতে নতুন শিল্পনগরী
পরে দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
প্রায় ১৮৮ একর জমির ওপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণ অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা বাদ দিলে প্রায় ১১০ একর জমিতে শিল্প উদ্যোক্তাদের প্লট দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। শিল্পের ধরন ও আকার বিবেচনায় প্লটের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রস্তাবিত শিল্পনগরীর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করতে বাইপাস সড়কটি ভবিষ্যতে ছয় লেনের মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ডিপিপি তৈরির কাজ চলছে।
এর আগে সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিসিকের উদ্যোগে ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টারের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা সিএমএসএমই খাতের অবদান বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য এই অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও কার্যকর অবকাঠামো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


