বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই দেশের বিমান পরিবহন খাতকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। উড়োজাহাজের বহর বাড়ানো, নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু, বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন—সবকিছুকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ে প্রথম অফিস করে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাই হবে তার অন্যতম প্রধান কাজ। নতুন নেতৃত্বের অধীনে একটি কার্যকর টিম গঠন করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বাড়বে বিমানের বহর
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ সংকটকে দেশের বিমান খাত সম্প্রসারণের অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখছেন নতুন মন্ত্রী। এ সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন করে ২০২৭ সাল থেকে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে দেশে আসবে। সেই সময় পর্যন্ত যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে লিজের মাধ্যমে উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্ক-সিডনিতে সরাসরি ফ্লাইটের উদ্যোগ
বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে নিউইয়র্ক ও সিডনিতে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করা গেলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই এ রুটে ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তৃতীয় টার্মিনালে ডিসেম্বরের লক্ষ্য
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নিয়েও সময়সীমা জানিয়েছেন নতুন মন্ত্রী।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি চুক্তি সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির পর প্রায় সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালের সফট ওপেনিংয়ের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কাজের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সময় আরও এক থেকে দুই মাস বাড়ানো হতে পারে বলেও জানান তিনি।
অক্টোবরে কক্সবাজার বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিমানমন্ত্রী। আগামী অক্টোবরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এটি চালু হলে কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গুরুত্ব পাচ্ছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর
ঈশ্বরদী বিমানবন্দরকেও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী। বিমানবন্দরটি বর্তমানে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বর্তমানে বিমানবন্দরটির রানওয়ে প্রায় ৬ হাজার ফুট। এর সঙ্গে আরও প্রায় ২ হাজার ৫০০ ফুট যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রানওয়ে সংস্কার এবং একটি ছোট টার্মিনাল ভবন নির্মাণের কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
যাত্রী হয়রানি বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হয়রানি নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এ জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজের ভেতরে পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত ও রুচিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন মন্ত্রী।
সরকারের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সম্প্রসারিত ও যাত্রীবান্ধব করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।


