আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে সংক্রমণের গতি এতটাই বেড়েছে যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর ১০০ দিনের মধ্যে ডিআরসিতে ৫ হাজার ২০০টির বেশি ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯০টি নতুন নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।
চলতি বছরের মে মাসে ডিআরসিতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। এবার ছড়ানো ভাইরাসটি বুন্দিবুগিও প্রজাতির। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে দেশটির সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হয়েছে। ১২ আগস্ট পর্যন্ত ডিআরসিতে ৪ হাজার ৬৬৫টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২ হাজার ১৮৪টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছিল। মৃত্যুহার ছিল প্রায় ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
সংক্রমণ বর্তমানে দেশটির ছয়টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশকে এখনো প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, হোত-উয়েলে, তশোপো ও বাস-উয়েলেতেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে নিরাপত্তাহীনতা, মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধতা। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। এসব কারণে রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি ও আক্রান্তদের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরাও ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক স্বাস্থ্য ও সেবাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে মৃত্যুও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসাকেন্দ্র বাড়ানো, নজরদারি জোরদার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে ডব্লিউএইচও।
ডব্লিউএইচওর সাম্প্রতিক ঝুঁকি মূল্যায়নে ডিআরসিতে পরিস্থিতিকে খুব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুন্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বর্তমানে কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা, সংক্রমণের শৃঙ্খল শনাক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডব্লিউএইচও বলছে, সংক্রমণের বর্তমান গতি নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানো না হলে ডিআরসির এই ইবোলা সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


