বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ৯ শ্রমিকের মরদেহ আজ দেশে ফিরছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
নিহত ৯ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। বাকি দুজনের একজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং অন্যজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে স্বজনরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন।
আত্রাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঠানো চিঠির মাধ্যমে মরদেহ দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া আত্রাইয়ের সাতজন হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তার ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।
এ ছাড়া নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের সমন্বয়ে মরদেহগুলো পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে। এতে স্বজনদের কোনো পরিবহন খরচ বহন করতে হবে না। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে স্বজনদের অপেক্ষা এখনো শেষ হচ্ছে না। কারণ অগ্নিকাণ্ডে নিহত আরও কয়েকজন বাংলাদেশির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। ইউএনও জানান, প্রথম দিকে আত্রাইয়ের ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে।
গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় ৯ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করে।
তবে বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রয়োজন হচ্ছে। সেই পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় স্বজনদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। প্রিয়জনের মরদেহ কবে দেশে ফিরবে, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তারা।
এদিকে আজ শনাক্ত হওয়া ৯ শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে অন্তত কয়েকটি পরিবার তাদের প্রিয়জনকে শেষবারের মতো কাছে পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।


