আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ন্যাটো ও বাল্টিক অঞ্চলের ওপর সম্ভাব্য রুশ হামলা ঠেকানো এবং ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা কমানোর লক্ষ্যে গোপনে মস্কো সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সরকারি একটি উড়োজাহাজে তিনি মস্কো যান বলে জানা গেছে।
ঘোষণা ছাড়াই সিআইএ পরিচালকের এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সফরটির আয়োজন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে সতর্ক করা, যাতে ইউক্রেন যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়ার মতো বাল্টিক অঞ্চলের ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে কোনো সামরিক বা হাইব্রিড অভিযান পরিচালনা না করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি উত্তেজনার মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সীমিত পরিসরে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা করতে পারেন। এ কারণে মস্কোকে আগাম সতর্ক করার উদ্যোগ নেয় ওয়াশিংটন।
এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা কমানোর বিষয়েও আলোচনা করেন সিআইএ প্রধান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানকে প্রযুক্তিগত বা গোয়েন্দা সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প র্যাটক্লিফের মস্কো সফরকে ‘আধা-নিয়মিত’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এটিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বর্ণনা করেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠক ও আলোচনার বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোতে কোনো উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তার এ সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ, ন্যাটোর নিরাপত্তা এবং রাশিয়া-ইরান সামরিক সম্পর্ক—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে ঘিরেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে নতুন করে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে এই সফরে।


