বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদে দাঁড়িয়ে গেলে অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম।
অধিবেশনের শুরুতেই সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বিভিন্ন অপরাধের চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সফল না ব্যর্থ।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ—এটা শাহবাগ ও পল্টনে বলা যায়। সংসদে এ ধরনের প্রশ্ন চলে না।’ তিনি প্রশ্নটিকে ‘পল্টনের বক্তব্য’ বলেও মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত অপরাধগুলোর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন নির্দিষ্ট উদাহরণ থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
তার বক্তব্যে ‘শাহবাগ ও পল্টন’ প্রসঙ্গ আসার পর বিরোধী দলের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। একপর্যায়ে অধিবেশন কক্ষে ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয়।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।’
পরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলেন এবং নিজেকে সংসদ সদস্যদের শিক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্র হতে সংসদে আসেননি। তিনি শিক্ষকতা করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারেন, সেখানে আগ্রহীরা ভর্তি হয়ে শিক্ষা নিতে পারবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সংসদের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের মর্যাদা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।


