বরেন্দ্রকষ্ঠ নিউজ
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এবার গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জের তারাবো পর্যন্ত নতুন মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘এমআরটি লাইন-২’ নামে প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত রুটটির মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। যাত্রী পরিবহনের জন্য কোথাও উড়ালপথ, আবার কোথাও পাতালপথ ব্যবহার করা হবে। এ লাইনে মোট ২৪টি স্টেশন রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই রুটে মেট্রোরেল চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
পুরান ঢাকাকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব
এমআরটি-২-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো পুরান ঢাকার মধ্য দিয়ে এর রুট নির্ধারণ। প্রস্তাবিত পথে ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যুক্ত হবে।
এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত একটি শাখা লাইন নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে। এর ফলে পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকাগুলো মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে।
থাকবে একাধিক মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ
নতুন এই লাইনকে বিচ্ছিন্ন কোনো রুট হিসেবে গড়ে তুলতে চায় না সরকার। যাত্রীদের দ্রুত এক রুট থেকে অন্য রুটে যাওয়ার সুবিধা দিতে এমআরটি-২-এর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন অন্যান্য মেট্রোলাইনের সংযোগ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাবতলী এলাকায় এমআরটি-৫-এর উত্তর ও দক্ষিণ অংশের সঙ্গে, কমলাপুরে এমআরটি-১, ৪ ও ৬-এর সঙ্গে এবং সাইনবোর্ড এলাকায় এমআরটি-৪-এর সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা হবে।
বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির ঋণ সহায়তার চেষ্টা
বড় এই প্রকল্পের অর্থায়নে বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর করছে সরকার। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নীতিগত সম্মতিও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এআইআইবির সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
পিডিপিপি পর্যালোচনা করছে পরিকল্পনা কমিশন
এমআরটি-২ প্রকল্পের প্রাক-প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব বা পিডিপিপি বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনের মতামত পাওয়ার পর বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হবে।
এরপর সমীক্ষা এবং প্রকল্পের মূল কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ মনে করছে, প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইন পরিবহন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ পুরান ঢাকাকে মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার কারণে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে।
ভবিষ্যতে যেতে পারে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত
শুধু নারায়ণগঞ্জেই থেমে থাকবে না এমআরটি-২। ভবিষ্যতে নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত এই মেট্রোরেল রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রাজধানী ও আশপাশের শিল্প ও জনবহুল এলাকার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সরকারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের মেট্রোরেল প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এমআরটি-২ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত ও আন্তঃসংযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ঢাকার দ্রুত গণপরিবহন যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।


