আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপালে আকস্মিক হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৯০০ জনের বেশি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে হতাহতের সর্বশেষ এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক ঢলের মধ্য দিয়ে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হিমবাহ ধসের পর লেন্দে নদীতে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। পরে তীব্র স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।
দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের খুঁজতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ ও জমে থাকা কাদা সরাতে ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে লাগানো হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে খাবার ও জরুরি সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ফেডারেশনের নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, বন্যায় কয়েকটি গ্রাম ও ব্যস্ত বাজার এলাকা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতের নাগরিক। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
নতুন হ্রদ ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক
প্রথম দফার বন্যার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে না সামলাতেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর ওপর বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। প্রাকৃতিক বাধটি ভেঙে গেলে নিচের দিকে ফের ভয়াবহ ঢল নামতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ প্রাকৃতিকভাবে আটকে যাওয়ায় এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমার আশঙ্কা রয়েছে।
তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটির অবস্থান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ নির্ধারণের পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্থায়ী হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে সেখানে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ফলে একদিকে চলছে শত শত মানুষের মরদেহ উদ্ধারের কঠিন অভিযান, অন্যদিকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় নেপালের দুর্গত এলাকাগুলোতে আতঙ্ক আরও বাড়ছে।


