বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে দলের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। মহাসচিব পদ ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, তা নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কাউন্সিলের আগে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের শূন্য পদ পূরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এ পদে বর্তমানে দলের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের পাশাপাশি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
তবে সম্ভাব্য পদায়ন নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। কাউন্সিলের আগে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয়
বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, কাউন্সিলের তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তের পর তা জানানো হবে। তবে কাউন্সিল বেশি দেরি হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানও দ্রুত কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়েও দলের মধ্যে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
ফেব্রুয়ারিকে লক্ষ্য করে প্রস্তুতি?
দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য ও সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ব্যস্ততার কারণেই জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। চলতি বছরে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও আগামী বছরের শুরুর দিকে আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি এগোচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আগামী ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওই সময় সরকারের এক বছর পূর্তি এবং শীতকাল থাকায় কাউন্সিল আয়োজনের পরিবেশ অনুকূল হবে বলেও মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।
সামনে দুই বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ করার পর বিএনপির সামনে এখন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয় রয়েছে। এর একটি হচ্ছে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যটি জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। দলীয় বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে গত প্রায় এক দশকে নতুন কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি।
অবশ্য এই দীর্ঘ সময়ে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নেতাদের যুক্ত করা হয়েছে, অনেককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে এবং কেউ কেউ দলীয় দায়িত্ব থেকেও সরে গেছেন। এবার জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সেই সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে দলের নেতাকর্মীদের।


