বরেন্দ্রকণ্ঠ ডেস্ক
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। এবার পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে আগের নিয়মে পরিবর্তন এনে আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামীকাল সকাল ১০টার দিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে। এবার শুধু উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণ সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। আবেদন করা খাতাগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের বছরগুলোতে পুনর্নিরীক্ষণের সময় মূলত নম্বর গণনায় ভুল, কোনো প্রশ্নের উত্তর মূল্যায়ন না হওয়া কিংবা নম্বর স্থানান্তরে ত্রুটি রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হতো। তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
এবার পুনর্নিরীক্ষণে শিক্ষার্থীদের আগ্রহও ছিল উল্লেখযোগ্য। গত ১১ আগস্ট আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট রাত পর্যন্ত চলে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারায় মোট উত্তরপত্রের সংখ্যা পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। সব বোর্ড মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। মোট আবেদন দাঁড়ায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত ও ব্যবহারিক মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, যশোর, সিলেট, বরিশাল ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।
ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণে কোনো শিক্ষার্থীর নম্বর বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা জানা যাবে। ফলে আগামীকাল সকাল থেকেই ফলাফলের দিকে নজর থাকবে আবেদনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।


