রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর লোহানিপাড়া ইউনিয়নের তরুণদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বের করে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বড় কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রায়হান কবির মিল্টন। প্রায় ৪ থেকে ৫ বিঘা জমির ওপর প্রস্তাবিত এ কেন্দ্রে তরুণদের হাতে-কলমে কর্মমুখী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কেন্দ্রে কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তরুণদের নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। রায়হান কবির মিল্টন বলেন, বর্তমানে শিক্ষাজীবন শেষ করে অনেক তরুণ চাকরির পেছনে ছুটছেন। কিন্তু সবার জন্য সরকারি-বেসরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই তরুণদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু চাকরির অপেক্ষায় থাকা তরুণ তৈরি করা নয়; এমন তরুণ প্রজন্ম তৈরি করা, যারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।” প্রস্তাবিত কেন্দ্রের জন্য লোহানিপাড়া ইউনিয়নের মধ্যে উপযুক্ত ৪–৫ বিঘা জমি খোঁজা হচ্ছে। জমি ক্রয়, দীর্ঘমেয়াদি লিজ কিংবা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ উদ্যোগে জমির মালিক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রায়হান কবির মিল্টনের পরিকল্পনায় কৃষিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আধুনিক কৃষি, মৎস্য ও পশুপালনের পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ থাকবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম শর্ত।
” রায়হান কবির মিল্টনের প্রত্যাশা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় মানুষ, জমির মালিক, উদ্যোক্তা ও তরুণ সমাজ সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি লোহানিপাড়া ইউনিয়নের স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন তিনি।


