স্পোর্টস ডেস্ক
দীর্ঘদিনের রানখরা কাটিয়ে ফর্মে ফেরার লক্ষ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার ও টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজম। প্রায় সাত বছর পর আবারও দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেখা যাবে তাকে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-ওয়ানে ওয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ওজিডিসিএল) হয়ে খেলবেন বাবর।
২০১৯ সালের পর দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি পাকিস্তানের অন্যতম সেরা এই ব্যাটারকে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ফাইনালে সেন্ট্রাল পাঞ্জাবকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে নর্দার্নকে ইনিংস ও ১৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তার দল।
এবার দীর্ঘ বিরতির পর লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাবর। ওজিডিসিএলের ক্রীড়া বিভাগের প্রধান ফারাহ বাতুল জানিয়েছেন, ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে পাকিস্তানে ফেরার কথা রয়েছে বাবরের। পরদিনই তিনি দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
তবে ঠিক কোন ম্যাচ দিয়ে তার মাঠে ফেরা হবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। ওজিডিসিএল প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে পাকিস্তান টেলিভিশনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলছে। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর কিংসম্যান একাডেমি এবং ২৪ সেপ্টেম্বর খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। দেশে ফিরে বাবর সিদ্ধান্ত নেবেন দ্বিতীয় নাকি তৃতীয় ম্যাচে মাঠে নামবেন।
বাবরের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার পেছনে মূল কারণ হিসেবে সামনে এসেছে তার সাম্প্রতিক টেস্ট ফর্ম। কয়েক বছর ধরেই লাল বলের ক্রিকেটে সময়টা ভালো যাচ্ছে না তার। ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ছিল যথাক্রমে ২২, ২০ ও ৩১।
দীর্ঘ চার বছর ধরে টেস্টে কোনো সেঞ্চুরিও নেই বাবরের। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলেন তিনি। দুই টেস্টে ১৯৬ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের সিরিজে আবারও হতাশ করেছেন। প্রথম টেস্টে চোটের কারণে খেলতে না পারার পর বাকি দুই টেস্টের চার ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল ৮, ৬, ৭ ও ৭৬ রান।
এর মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ায় দলের পাশাপাশি অধিনায়ক বাবরও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফেরাকে নিজের ব্যাটিং নিয়ে কাজ করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির বাইরে দীর্ঘ ফরম্যাটে নিয়মিত খেলার মাধ্যমে পুরোনো ছন্দ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) চায় জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটাররা ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অংশ নিক। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বাবরকে অতিথি খেলোয়াড় হিসেবে ওজিডিসিএলের দলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু বাবর নন, পাকিস্তানের সাদা বলের দুই অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও সালমান আলি আঘাও প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে খেলছেন। শাহিন খেলছেন কেআরএলের হয়ে, আর সালমান আঘা প্রতিনিধিত্ব করছেন কিংসম্যান একাডেমিকে।
জুলাইয়ে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বাবরের শুরুটা অবশ্য স্বস্তির হয়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ ১-১ ড্র করার পর ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান।
এখন নিজের ব্যাটিং এবং দলের টেস্ট পারফরম্যান্স—দুই ক্ষেত্রেই ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাবরের সামনে। সাত বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরা সেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম ধাপ হতে পারে।


