বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন বিধান যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য দাখিলের সময় প্রার্থীর পাশাপাশি তার নিয়োগ করা নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও উল্লেখ করতে হবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ সংশোধন করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর সংশোধিত বিধিমালা নিয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সংশোধনের ফলে মনোনয়নপত্রের ফরম-১-এ নির্বাচনী ব্যয় পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাবের তথ্যের সঙ্গে প্রার্থী অথবা তার নিয়োজিত নির্বাচনী এজেন্টের হিসাব নম্বর উল্লেখের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালায় হলফনামার সংযুক্তি-১-এর ক্রমিক ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে পরিবর্তন করে কিছু তথ্য দাখিলকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে। আগে যেসব তথ্য সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল, সংশোধনের পর সেগুলো ‘দাখিল ঐচ্ছিক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রার্থীর হলফনামায় ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির অর্থও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক যার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, তাকেই অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ছাড়া প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার বিষয়টিও ঐচ্ছিক করা হয়েছে। হলফনামার ক্রমিক ১০-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে এ সংক্রান্ত বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের বিধানেও সংশোধন এনেছে কমিশন। সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে যে কোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে।
নতুন গেজেটে মোট ১২০টি নির্বাচনী প্রতীক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ নম্বর প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’কে স্থগিত দেখানো হয়েছে। ফলে প্রতীক বরাদ্দের সময় স্থগিত প্রতীকটি বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৯৪-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এ এসব সংশোধন আনা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন।


