বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী এক বছরজুড়ে ২৩টি কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চলবে কর্মসূচিগুলো। এতে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের পাশাপাশি নবদম্পতি, পুরুষ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা এবং বস্তি, ভাসমান ও বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বুধবার রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সেমিনারে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ‘মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এ সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র্যালি ও সমন্বয় সভার বাইরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নভেম্বরে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন আয়োজনের পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সমন্বয় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে।
তিনি বলেন, আগের অপারেশনাল পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিতভাবে চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করাই এখন অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ কমানো, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরির বিষয়গুলোতেও কর্মসূচিগুলো গুরুত্ব পাবে।
ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে সহজ ভাষায় সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শুধু তথ্য প্রচার করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তথ্য এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে তা বুঝতে পারে। এ কাজে গণমাধ্যমকর্মী, গবেষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের শিক্ষক, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০ জন অংশ নেন।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে গ্রুপ ওয়ার্ক করা হয়। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে তথ্য ও সেবা পৌঁছানোর উপায় নিয়ে সেখানে মতামত নেওয়া হয়।
গ্রুপ ওয়ার্ক থেকে পাওয়া সুপারিশ পর্যালোচনার পর এক বছরের কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।


