সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি সড়কের জায়গা দখল করে বাড়ির দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক যুবক। সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে সরকারি জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৫ নম্বর বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহমুদাবাদ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদসংলগ্ন সাহেবানি সড়কে।
অভিযোগের তীর স্থানীয় ব্যবসায়ী জানে আলম বাবুলের দিকে। তিনি মৃত এরশাদ উল্যা সেরাংয়ের ছেলে।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদের উত্তর পাশে ভাড়া ঘর নির্মাণের পাশাপাশি সড়কসংলগ্ন এলাকায় বাড়ির দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের বিভিন্ন অংশে সড়কের জায়গা সংকুচিত করে বাড়িঘর ও দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ নিয়ে অনেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি নকশা অনুযায়ী সড়কটির প্রস্থ ২৪ ফুট। কিন্তু সড়ক নির্মাণ ও পরিমাপের ক্ষেত্রে সঠিক নকশা অনুসরণ না করায় সড়কের প্রকৃত সীমানা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তাদের আরও দাবি, বাহারিয়ার পাড়া জামে মসজিদ এলাকা থেকে জলদাশ পাড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে কোথাও কোথাও ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। একজন সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের পর অন্যরাও একইভাবে জায়গা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এতে সরকারি সড়কের জায়গা ধীরে ধীরে বেদখলে চলে যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক বিরোধও তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়কের প্রকৃত সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই জটিলতা নিরসনে সরকারি ডিজিটাল সার্ভে ও নকশা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে পুনরায় পরিমাপ করা প্রয়োজন। এতে সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি জায়গা উদ্ধার এবং স্থানীয় বিরোধ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগকারী মো. ইব্রাহিম বলেন, সড়কের জায়গা দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত করলে সড়কের জায়গা উদ্ধার হবে এবং এলাকাবাসী উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জানে আলম বাবুল।
তিনি বলেন, “আমি আমার ক্রয় করা জায়গার ওপর বাড়ি ও দেয়াল নির্মাণ করছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে এসে আমার জায়গা পরিমাপ করে দিয়েছেন। আমি আমার জায়গাতেই দেয়াল নির্মাণ করছি।”
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফজলে রাব্বির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।”
অন্যদিকে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আলমগীর বাদশাহ বলেন, সরকারি সড়ক দখল উচ্ছেদ করা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তার কাছে সড়কের সঠিক ম্যাপ-নকশাও নেই বলে জানান তিনি।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করে সরকারি নকশা ও ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে সড়কের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হোক। সড়কের জায়গা দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে তা উদ্ধারের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এখন প্রশাসনের তদন্তের পরই জানা যাবে—সড়কের প্রকৃত সীমানা কোথায় এবং সেখানে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু।


