বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
ফেনীর পরশুরামে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন কাজের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আগামী ১ অক্টোবর। প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীর পরশুরামসহ আশপাশের এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, নদীভাঙন রোধ এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় নদী ও জলাধার পুনঃখনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচ অবকাঠামোর সংস্কারসহ বিভিন্ন কাজ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ফেনীতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার সকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পরশুরামের খেয়াঘাট, মুহুরী নদীর তীরবর্তী এলাকা ও সম্ভাব্য জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হবে। এরপর সেখানে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তিনি ফুলগাজীতে গিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সফরের অংশ হিসেবে পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর প্যানেলও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এছাড়া ফুলগাজীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য সূচি রয়েছে।
ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিকেলে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানস্থলগুলো রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিনটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রেড ও ইয়েলো জোনে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্য নির্ধারিত থাকবে হোয়াইট জোন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় জনসভাস্থল নির্মাণের কাজ চলছে। মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলক, অস্থায়ী হেলিপ্যাডসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। জনসভায় আগত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি, পোর্টেবল টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘ্ন রাখতে ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের কয়েকটি অংশে সংস্কারকাজ চলছে। পাশাপাশি জনসভাস্থলের আশপাশের সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ চান তারা।


