আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত উৎপাদন খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা জানিয়েছে মিনেসোটা-ভিত্তিক মেসাবি মেটালিকস। ২০৩০ সালে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেসাবি মেটালিকসের কর্মকর্তারা যৌথভাবে প্রকল্পটির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, আইওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কারখানাটি চালু হলে বছরে ৭৫ লাখ টন বা তার বেশি ইস্পাত উৎপাদন করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের হিসাবে, প্রকল্পটি আইওয়ায় প্রায় ১ হাজার ৭৫০টি স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি করবে।
কারখানাটি আইওয়ার ঠিক কোন এলাকায় নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে মেসাবি মেটালিকস এখনো বিস্তারিত জানায়নি। তবে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কারখানাটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে এত বড় পরিসরের নতুন ইস্পাত কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ আর দেখা যায়নি। ভবিষ্যতে এই কারখানার উৎপাদিত ইস্পাত দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রকল্পেও ব্যবহারের সুযোগ থাকতে পারে।
প্রকল্পটির কাঁচামাল সরবরাহের জন্য মিনেসোটায় আলাদা বিনিয়োগ করছে মেসাবি মেটালিকস। সেখানে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে লৌহ আকরিকের খনি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে খনি মিনেসোটায় হলেও ইস্পাত কারখানা আইওয়ায় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাঁচামালের উৎসের কাছাকাছি কারখানা স্থাপন না করে অন্য অঙ্গরাজ্যে কেন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিক জানিয়েছেন, ইস্পাত কারখানাটি সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়ন পাবে না। তবে মেসাবি মেটালিকসের মিনেসোটা প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অর্থায়ন করেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ওই প্রকল্পের জন্য ৭৭ কোটি ডলারের সরাসরি ঋণ অনুমোদন করে।
এদিকে আইওয়া সরকারও প্রকল্পটির জন্য কর-সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ জন্য রাজ্যের আইনপ্রণেতাদের বিশেষ অধিবেশনে বসার প্রয়োজন হতে পারে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মেসাবি মেটালিকসের মালিক ভারতের এসার গ্রুপ। মিনেসোটায় প্রতিষ্ঠানটির লৌহ আকরিক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালে। দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক সংকটের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করে। পরবর্তীতে মালিকানা পরিবর্তনের পর ২০১৯ সালে এসার গ্রুপ আবার প্রকল্পটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
দেশীয় ইস্পাত উৎপাদন বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির অন্যতম লক্ষ্য। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে আমদানি করা ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। নতুন ইস্পাত কারখানার এই ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।


