বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য জারি করা গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার অর্থ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন নেই বলে মত দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করতে পৃথক প্রজ্ঞাপনের প্রয়োজন হবে না। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত গেজেটই এমপিওভুক্ত জনবলের জন্য প্রযোজ্য হবে।’
ভাতা আগের মতোই থাকবে
অতীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক গেজেট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের মতো এমপিওভুক্ত জনবল সব ধরনের ভাতা পান না। এসব বিষয় কীভাবে সমাধান হবে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, তাদের মূল বেতন বাড়বে, তবে ভাতাগুলো আগের মতোই থাকবে। বিষয়গুলো নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কাজ করবে।
নতুন পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হিসাব যেভাবে
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে হিসাব-নিকাশ চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেলের তথ্য প্রয়োজন হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের জন্য দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। যারা পুরোনো বেতন স্কেলের একেবারে শুরুতে রয়েছেন, তাদের হিসাব তুলনামূলক সহজ। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের কোনো ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।
স্কেলের শুরুতে থাকা কর্মচারীদের বেতন
কোনো কর্মচারী ৩০ জুন পর্যন্ত তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেলে নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারিত হবে।
উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ অর্থাৎ ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের স্কেল যদি ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তার নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপই নতুন মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হবে।
মাঝামাঝি ধাপে থাকা কর্মচারীদের হিসাব
কোনো কর্মচারী যদি পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি মূল বেতন পান, তাহলে প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন এবং তার বর্তমান মূল বেতনের মধ্যে ব্যবধান বের করতে হবে।
এরপর সেই ব্যবধান নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। হিসাবের ফল যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সেই ধাপেই নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে। আর ফলাফল কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে তার পরবর্তী উচ্চতর ধাপটি নিতে হবে।
ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার পুরোনো বেতন স্কেল ছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৩ হাজার ১৩০, ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত।
নতুন বেতন কাঠামোয় তার সংশ্লিষ্ট স্কেল ধরা হলো ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করতে হবে:
১৩,৭৯০ – ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে ওই কর্মচারীর বর্তমান বেতন ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি।
এরপর এই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে:
২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা
নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারিত কোনো ধাপ না থাকায় সরাসরি এই অঙ্কে বেতন নির্ধারণ করা হবে না। এর পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপ নিতে হবে। ফলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
নিজের নতুন বেতন জানতে যে তথ্যগুলো লাগবে
একজন চাকরিজীবী নিজের নতুন মূল বেতন হিসাব করতে চাইলে প্রথমে তিনটি তথ্য নিশ্চিত করতে হবে—
৩০ জুন তার মূল বেতন কত ছিল;
তিনি কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন;
জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ ওই গ্রেডের জন্য নির্ধারিত নতুন বেতন স্কেল কত।
এরপর দেখতে হবে তিনি পুরোনো বেতন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে ছিলেন কি না। প্রারম্ভিক ধাপে থাকলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপই হবে তার নতুন মূল বেতন।
আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন থেকে বর্তমান মূল বেতনের ব্যবধান বের করে তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। প্রাপ্ত অঙ্কটি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপটি নতুন মূল বেতন হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।


