আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি জলমহাল ইজারার ডিসিআর (ডিমান্ড কালেকশন রেজিস্টার) ও চুক্তিনামা ফি বাবদ আদায় করা প্রায় ১২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত এক মাসে অনতত তিনজন ভুক্তভোগী সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস ধরে ওই কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। আর এ কারনেই ইজারাগ্রহীতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, সরকারি পুকুর পাইয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের কাছে থেকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে ইব্রাহিম খলিলুল্লার বিরুদ্ধে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বাংলা ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য সরকারি জলমহাল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটি। প্রথম দফায় ১০টি জলমহাল ইজারা দেওয়ার পর গত মে মাসে দ্বিতীয় দফায় জলমহাল ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফার দরপত্রে মোট ৮১টি সিডিউল জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটি ৬৬টি পুকুরের দরপত্র অনুমোদন করে। অনুমোদিত ইজারাগ্রহীতাদের ডিসিআর ও চুক্তিনামা বাবদ নির্ধারিত টাকা জমা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়।
ইজারাগ্রহীতারা নির্ধারিত টাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর কাছে নগদে জমা দেন। এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি মাত্র কয়েকটি জলমহালের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন এবং ২৩ জন ইজারাগ্রহীতাকে ডিসিআর দেওয়া হয়। বাকি প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে তিনি হঠাৎ কর্মস্থল থেকে অনুপস্থিত হয়ে যান।
এদিকে টাকা জমা দেওয়ার পরও বেশ কয়েকজন ইজারাগ্রহীতা এখনো ডিসিআর, চুক্তিনামা ও জলমহালের দখল পাননি। ফলে ইজারার মেয়াদ কমে যাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সমিতি এখনো ডিসিআর পায়নি বলে জানা গেছে।
ইজারাগ্রহীতাদের দাবি, জলমহালের দখল পেতে যদি আরও কয়েক মাস সময় চলে যায়, তাহলে ইজারার তিন বছরের মেয়াদ থেকে ওই সময়টুকু কার্যত বাদ যাবে। মেয়াদ শেষে নির্ধারিত সময়েই জলমহাল ছেড়ে দিতে হবে। ফলে দেরিতে দখল পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ইতোমধ্যে কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং কিছু ইজারাগ্রহীতাকে ডিসিআর দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে বাকি টাকা কবে উদ্ধার হবে এবং যেসব ইজারাগ্রহীতা এখনো ডিসিআর ও জলমহালের দখল পাননি, তাদের ইজারার মেয়াদজনিত ক্ষতি কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


