লোকমান আলী, মহাদেবপুর
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসা খলিয়ান অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইমাজ উদ্দিন গংয়ের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বাড়ি থেকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না মধুবন গ্রামের কৃষক আদম উদ্দিন প্রামাণিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুবন গ্রামের বাসিন্দা ইমাজ উদ্দিন ও আদম উদ্দিন প্রামাণিক আপন দুই ভাই। আদম উদ্দিন প্রামাণিকের দাবি, বাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত জমিটি তিনি প্রায় ৪০/৫০ বছর ধরে খলিয়ান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।
সম্প্রতি খলিয়ানটির দখল ও সীমানা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ ও ২৫ সেপ্টেম্বর দুই দফায় ওই খলিয়ানে গাছের চারা রোপণ এবং বাঁশের বেড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আদম উদ্দিন। তাঁর দাবি, ইমাজ উদ্দিন গংয়ের সহযোগিতায় মৃত আবু সাইদ গংয়ের কয়েকজন ব্যক্তি ওই জায়গায় দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন।
আদম উদ্দিনের অভিযোগ, বাঁশের বেড়া দেওয়ার ফলে তাঁর বাড়ির স্বাভাবিক যাতায়াতের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে বাড়ি থেকে বের হতে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের প্রতিবেশীদের বাড়ির ভেতর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আদম উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, “বাড়ির সামনের খলিয়ানটি দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি ব্যবহার করে আসছি। খলিয়ান নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের পর জমি মাপজোক করা হয় এবং তিনি তাঁর অংশের তুলনায় বেশি জমি দখলে রেখেছেন। পরে তাদের ইন্ধনে তৃতীয় পক্ষের লোকজন এসে বাঁশের বেড়া দিয়ে জায়গাটি ঘিরে দেয় এবং গাছের চারা রোপণ করে।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমার বড় ভাই ও ভাতিজারা তাদের সহযোগিতা করেছেন। শুধু খলিয়ান নয়, আমার ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা কলাগাছও কেটে সেখানে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে আমার জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমাজ উদ্দিনের ছেলে ইখতিয়ার উদ্দিন দুরন্ত। তিনি বলেন, “আমরা কেউ ওই জায়গা দখল করিনি। বরং মৃত আবু সাইদ গংয়ের লোকজন—আব্দুল ওয়াহাব, মুস্তাকিম, মোন্সের আলী, ইউসুফ আলী, আমানুল্লাহসহ আরও কয়েকজন—জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেছে। তারা যখন বেড়া দিচ্ছিল, আমরা পাশ থেকে বিষয়টি দেখেছি। এ ঘটনায় চাচা আমাদের বিরুদ্ধে ও ১৪৪ এর মামলা করেছেন।”
জমির প্রকৃত মালিকানা, দখল এবং সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির কারণে এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, দীর্ঘদিনের ব্যবহার ও মালিকানার বিষয়টি যাচাই করে তাঁর চলাচলের পথ উন্মুক্ত এবং জমির দখল সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত সমাধান করা প্রয়োজন।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


