শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির কারণে এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল পাচ্ছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জব্বার হোসেনের বিচক্ষণতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীল তদারকিতে টিআর, জিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকল্প গ্রহণের চেয়ে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করাই বড় বিষয়। একটি প্রকল্পের বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগছে কি না, প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, জনগণ তার সুফল পাচ্ছে কি না—এসব বিষয় মাঠপর্যায়ে তদারকি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জব্বার হোসেন নিয়মিতভাবে প্রকল্পগুলোর খোঁজখবর রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
টিআর-জিআর প্রকল্পে জনকল্যাণের গুরুত্ব
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত টিআর (টেস্ট রিলিফ) ও জিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো/সাধারণ ত্রাণ)-এর আওতায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকার প্রয়োজনীয় ছোট ছোট অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাজ, জনসাধারণের চলাচলের সুবিধা এবং বিভিন্ন জরুরি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এসব কাজের প্রশাসনিক ও কারিগরি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে অনুমোদন, বাস্তবায়ন, পরিদর্শন ও প্রতিবেদন প্রস্তুত—বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
কাবিখা-কাবিটায় গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন
গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) ও কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে গ্রামের রাস্তা, মাটির রাস্তা সংস্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনসহ স্থানীয় প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়।
স্থানীয়রা বলছেন, গ্রামের ছোট ছোট রাস্তা কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। কৃষক তার উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারে নিতে পারেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও সুবিধা সৃষ্টি হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বন্যা, নদীভাঙন, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমেও এ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি বরাদ্দ ও সহায়তা যথাযথভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব রয়েছে।
চারজন ইউএনও পরিবর্তন হলেও থেমে থাকেনি উন্নয়ন
স্থানীয়দের সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হলো—গত ৫ আগস্টের পর শেরপুর উপজেলায় চারজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিবর্তন হলেও উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যায়ে কর্মকর্তা পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও চলমান প্রকল্পগুলো যেন থেমে না যায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ধারাবাহিক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। শেরপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভূমিকা প্রশংসা পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন দক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অন্যতম দায়িত্ব হলো সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা তদারকি করা। ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জব্বার হোসেন সেই দায়িত্ব পালনে সক্রিয় রয়েছেন বলে তারা জানান।
প্রকল্পের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ
সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কাজের পরিমাণ, গুণগত মান, বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জব্বার হোসেনের কার্যালয় মাঠপর্যায়ে প্রকল্প পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এলাকার প্রকৃত প্রয়োজন চিহ্নিত করে প্রকল্প গ্রহণ করা হলে সরকারি উন্নয়ন আরও কার্যকর হয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
উন্নয়নের সুফল আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা
শেরপুর উপজেলার মানুষ চান, টিআর-জিআর, কাবিখা-কাবিটাসহ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ যেন প্রকৃত প্রয়োজনের জায়গায় সঠিকভাবে কাজে লাগে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাজের মান নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হোক।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক পরিবর্তনের মধ্যেও যেভাবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে, ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শেরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জব্বার হোসেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


