রংপুর প্রতিনিধি
রংপুর বিভাগে চোরাচালান, মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরকদ্রব্যের অবৈধ পাচার প্রতিরোধে সীমান্তসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং মাদক ও বিস্ফোরক মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রংপুর বিভাগীয় সদরদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় চোরাচালান নিরোধ আঞ্চলিক টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, বিপিএম।
সভায় ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক পরিদপ্তর ও রেলওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক তথ্য বিনিময়, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। মাদক ও বিস্ফোরকদ্রব্যসংক্রান্ত মামলার তদন্তের মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রেঞ্জ ডিআইজি বলেন, আদালতে অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে অভিযুক্তের অপরাধ সম্পর্কে জ্ঞান (Knowledge), সংশ্লিষ্ট বস্তুর ওপর দখল (Possession) এবং নিয়ন্ত্রণ (Control) যথাযথ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
রেলপথে অবৈধ পণ্য ও বিস্ফোরকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধেও রেলওয়ে পুলিশের কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ক্ষেত্রে রংপুরে রেলওয়ে পুলিশের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত সহায়তার আশ্বাস দেন ডিআইজি। সভায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


