স্পোর্টস ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০ বছর বয়সের পর গোল করার হিসাবে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এবার পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকারের সামনে। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ভাইকিংয়ের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া জার্মান ক্লাবটি বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৫৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান কেইন। ছয় মিনিট পর হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
পরে লুইস দিয়াজের গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে জয় হাতছাড়া করে বায়ার্ন। তবে দলের জয় না এলেও ব্যক্তিগত অর্জনে আলোচনায় উঠে এসেছেন কেইন।
ভাইকিংয়ের বিপক্ষে দুই গোলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০ বছর বয়সের পর কেইনের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬। এই কীর্তি গড়তে তিনি খেলেছেন ৪০টি ম্যাচ। অন্যদিকে, একই বয়সের পর ৪৮ ম্যাচে ৩৫ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। অর্থাৎ মেসির চেয়ে আট ম্যাচ কম খেলেই তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন কেইন।
তবে এই পরিসংখ্যানে এখনো সবার ওপরে রয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩০ বছর বয়সের পর ৭৪ ম্যাচ খেলে ৬৮ গোল করেছেন পর্তুগিজ তারকা। ফলে রোনালদোর রেকর্ডে পৌঁছাতে কেইনকে আরও অনেক গোল করতে হবে।
টানা গোলের রেকর্ডেও রোনালদোকে ধরার সুযোগ
শুধু বয়সভিত্তিক গোলের হিসাবেই নয়, চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ম্যাচে গোল করার রেকর্ডেও রোনালদোর দিকে এগোচ্ছেন কেইন। ভাইকিংয়ের বিপক্ষে গোল করে টানা নয় ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। একই কীর্তি রয়েছে পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি ও সাবেক ডাচ ফরোয়ার্ড রুড ফন নিস্টেলরয়ের।
এই তালিকায় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে তাঁর।
আগামী সপ্তাহে বায়ার্নের মাঠে আর্সেনালের বিপক্ষে গোল করতে পারলে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়বেন কেইন। এরপর আগামী মাসে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষেও গোল করতে পারলে রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ পাবেন তিনি।
ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই দুর্দান্ত কেইন
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন বায়ার্নের এই স্ট্রাইকার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নয় ম্যাচে আট গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও চারটি গোল করিয়েছেন তিনি। বুন্দেসলিগার প্রথম পাঁচ ম্যাচে তাঁর গোল তিনটি, সঙ্গে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট।
জাতীয় দলের হয়েও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন কেইন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের ১২৫তম ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটনের পাশে বসেছেন এই ফরোয়ার্ড।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে ইংল্যান্ডের চার ম্যাচে ছয় গোল করেছেন কেইন। এতে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১।
মেসিকে পেছনে ফেলে এবার রোনালদোর রেকর্ডের দিকে নজর কেইনের। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই গোলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ রয়েছে ইংল্যান্ড অধিনায়কের সামনে।


