সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বস্ত্র বিতরণের মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে আসছেন অনুপ কুমার রায়। দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে তাঁর এই ধারাবাহিক উদ্যোগ যেন সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
হয়তো একটি শাড়ি, একটি লুঙ্গি কিংবা একটি ধুতির আর্থিক মূল্য খুব বেশি নয়; কিন্তু একজন অসহায় মানুষের কাছে এর মূল্য অনেক। এই সামান্য উপহারেই হয়তো কোনো মায়ের মুখে ফুটবে আনন্দের হাসি, কোনো পরিবারের পূজার আনন্দ হবে আরও রঙিন। নতুন পোশাকের স্বপ্ন পূরণ হবে কারও, উৎসবের আনন্দে সামিল হওয়ার সুযোগ পাবেন এমন অনেক মানুষ, যাঁদের কাছে নতুন পোশাক কেনা সব সময় সহজ নয়।
উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন সেই আনন্দের ভাগ পায় সমাজের প্রতিটি মানুষ। এই উপলব্ধি থেকেই দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শুধু পোশাক বিতরণ নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি কৃষ্ণানু ভৌমিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন অনুপ কুমার রায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লায়ন শমর দে, সরোজ বিশ্বাস, রমণী রঞ্জন শাহা, দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দীপক গুহ, দলিল লেখক শম্ভু দাশ, দক্ষিণ মছজিদ্দা কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রাজু চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন দাশ, দক্ষিণ মছজিদ্দা মহোৎসব কমিটির সভাপতি বিকাশ দাশ, জয় ভৌমিক এবং দক্ষিণ মছজিদ্দা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের উপদেষ্টা রঞ্জিত বলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের হাতে শাড়ি, লুঙ্গি ও ধুতি তুলে দেওয়া হয়। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরা হয়।
১৩ বছরের এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো কোনো সম্মাননা কিংবা প্রশংসা নয়—বরং একজন অসহায় মানুষের মুখে ফুটে ওঠা এক চিলতে হাসি। যে হাসি বলে দেয়, উৎসবের আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নয়; অন্যের জীবনেও আনন্দের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার নামই মানবতা।
দক্ষিণ মছজিদ্দার এই উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়। কারণ, মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না; প্রয়োজন একটি উদার মন, সহমর্মিতা এবং অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর আন্তরিক ইচ্ছা।
দুর্গাপূজার আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে, নতুন পোশাকের আনন্দে হাসুক সুবিধাবঞ্চিত শিশুও, স্বস্তি ও আনন্দে ভরে উঠুক অসহায় মানুষের মন। ধর্মীয় উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য হোক সম্প্রীতি, মানবতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা।


