এস এম নাজমুল হক:
ঢাকায় পাঁচ দিনের দাপ্তরিক ব্যস্ততা। মন্ত্রনালয়ের নানা কাজ, সভা-সেমিনার আর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের চাপ। কিন্তু সপ্তাহের ছুটির দু’দিন যেন তাঁকে টানে শিকড়ের কাছে, মাটির মানুষের কাছে। তাই ছুটি পেলেই ছুটে যান নিজ এলাকায়। খোঁজ-খবর নেন গরিব, দু:খী মানুষের, শোনেন তাদের অভাব, অভিযোগ। ভাগ করে নেন তাদের সুখ দুঃখ। তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাক্তার এম এ মুহিত।
ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকা হলেও তাঁর সময়ের একটি অংশ জুড়ে রয়েছে নিজ এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নদী বেষ্টিত চর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা তাঁকে টানে। যেখানে নদী ভাঙ্গন, যোগাযোগের দুর্ভোগ আর সীমিত সুযোগ সুবিধার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয় মানুষকে, সেখানে তাঁর উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয় আশার সঞ্চার ।
সম্প্রতি তিনি গিয়েছিলেন শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে। সেখানে গিয়ে কাছ থেকে দেখেন প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার লড়াই, শোনেন তাদের অভাব, অভিযোগ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে বিতরণ করেন ঢেউটিন ও নগদ চেক। সুযোগ ও আর্থিক সঙ্কটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য এ সহায়তা ঘর মেরামত ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও কাজ দিবে। এ সময় শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, উপজেলা বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন হিরু, আরিফুজ্জামান আরিফসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা অন্য এলাকার মানুষের চেয়ে আলাদা। নদীর সঙ্গে তাদের বসবাস, নদীর সঙ্গে লড়াই। কখনও ভাঙ্গন, কখনও বন্যা আবার কখনও জীবিকার অনিশ্চয়তা তাদের নিত্য সঙ্গী। এসব মানুষের কাছে এমপি, মন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি শুধু সহায়তা নয়, নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরার একটি সুযোগ।
ডাক্তার মুহিত বলেন, মানুষের কাছে যাওয়া, মানুষের কথা শোনা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো- জনসেবার মূল কথা এখানেই। সোনাতনীর চর অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি এমন উদ্যোগ গড়ে উঠুক, যা তাদের জীবনে আনবে স্থায়ী স্বস্তি ও সম্ভাবনার নতুন আলো।


