সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও সন্দ্বীপ চ্যানেলে অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে পরিচালিত অভিযানে ১০ জেলেকে তিন দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১ জেলেকে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে এক মেট্রিক টন ইলিশ মাছ এবং প্রায় এক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা। পরে অবৈধ জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা ইলিশ মাছ বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ শিকার বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশ ধরা অব্যাহত থাকলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের এমন অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বি। সহযোগিতা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভাটিয়ারী জোন। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোতাছিম বিল্লাহ জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞার পুরো ২২ দিন সাগর ও উপকূলীয় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অভিযান ও জরিমানা নয়, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করাও জরুরি। কারণ, মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনেও সীতাকুণ্ড উপকূলে এই অভিযান অবৈধ মাছ শিকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতার চিত্র তুলে ধরেছে।


