বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের একটি শব্দ নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, পিছিয়ে পড়া তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও তাদের অর্জনকে উৎসাহিত করাই ছিল তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক স্পষ্টীকরণ বিবৃতিতে মন্ত্রী তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্যবহৃত একটি শব্দের সংশোধন এবং বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ওই অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তার এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলেছিলেন তিনি।
সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির শিকার হন। নানা বাধা অতিক্রম করে তাদের শিক্ষার পথে এগিয়ে আসার বিষয়টিই তিনি বক্তব্যে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। সেখানে তার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক অনুভূতির প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের শিক্ষাগত সাফল্যকে উৎসাহিত করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই বক্তব্যে ব্যবহৃত একটি শব্দ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে নিজের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও শব্দচয়ন সম্পর্কে এই ব্যাখ্যা দেন তিনি।


