বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কারখানা মালিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর আগে রোববার ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ এবং কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এ পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, শ্রমিকদের বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের ১৯ জন নেতাকর্মীকে ঢাকায় আটক করেছে পুলিশ।
শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত দাবি পর্যালোচনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এতে শ্রমিক, মালিক, সরকার ও একজন স্বতন্ত্র সদস্যের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে।
বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শ্রমিকরা এ মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
এ অবস্থায় শ্রমিকদের প্রতি সহিংসতা, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচি পরিহার করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দাবি আদায়ে সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘায়িত হলে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটির আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের সময়মতো পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা এবং দেশের রপ্তানি স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


