আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলার মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের সুযোগ এখনো রয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ইরানের দক্ষিণ উপকূলে হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সীমিত পরিসরে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ওয়াশিংটন। তবে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বার্তা এড়াতে এসব হামলার বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তবে তেহরানের অবস্থানকে অনিশ্চিত উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভ্যান্স আরও জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।
এদিকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সংঘাতে জড়াতে হয়েছে।
একই রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি নাতাঞ্জ পরমাণু স্থাপনার দক্ষিণে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, গত ১ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধান চান। সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রতিই ওয়াশিংটনের আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে একদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার বার্তা—দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্য দিয়ে নতুন এক কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে।


