বরেন্দ্রকণ্ঠ নিউজঃ
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও চলমান অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে। কারখানা বন্ধ থাকায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার বা ১ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবিতে গত ২৯ অক্টোবর থেকে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, মহাসড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির কারণে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৭০০টির বেশি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন মালিকপক্ষ।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন জানান, দেশের পোশাকশিল্প থেকে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার রপ্তানি আয় আসে। বছরে গড়ে ৩৪০ দিন কারখানা চালু থাকে। সেই হিসাবে এক দিনের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকলে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের আর্থিক ও পরিচালনগত ক্ষতির প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, প্রায় ৭০০ রপ্তানিমুখী কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব পরবর্তী সময়ের উৎপাদনেও পড়বে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও ব্যবসায়িক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইলস লিমিটেডের পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা জানান, আগামী সপ্তাহে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৪০ হাজার পিস পোশাক সরবরাহের কথা রয়েছে। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করে পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার কারখানা খুললেও উৎপাদন ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণে একটি অর্ডার নিয়ে তিনি নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, উৎপাদন বন্ধ থাকলে রপ্তানি কার্যক্রমের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সময়মতো পণ্য না পাওয়ার আশঙ্কায় বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে বাংলাদেশের প্রতি তাঁদের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে অন্য দেশে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ভারতসহ প্রতিযোগী দেশগুলো সুবিধা পেতে পারে।
তিনি শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়টি দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং কারখানার স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা এখন পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় রপ্তানি আয়, বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


