হক আমীন :
দু চোখে আলো নেই। তবুও থেমে নেই জীবিকাসংগ্রাম। অন্তরের আলোয় পথ চলছেন মোখলেছুর রহমান হিরু (৩৯)। গাছের ছাল ছাড়িয়ে, তা শুকিয়ে বিক্রি করেই চলে তাঁর জীবিকা। নিজের চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে, মায়ের মুখে দু বেলা দু মুঠো খাবার তুলে দিতে পারলেই তাঁর পরম তৃপ্তি।
নাম মোখলেছুর রহমান। তবে হিরু নামেই বেশী পরিচিত। বাড়ি চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামে। দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও কর্মের প্রতি তাঁর অদম্য আগ্রহ, আর বেঁচে থাকার প্রত্যয় যেন হার মানিয়েছে সব প্রতিবন্ধকতাকে।
উপজেলার কলেজ মোড়ে সিলু মিঞার স”মিলে কাজ করেন হিরু। গাছের ছাল ছাড়িয়ে তা রোদে শুকিয়ে বিক্রিরি উপযোগী করাই তাঁর কাজ। প্রতিদিন এই শ্রমের বিনিময়ে আয় হয় দেড়”শ, দু”শ টাকা। সামান্য এই উপার্জনেই চলে তাঁর আর মায়ের সংসার।
জীবনের হিসাব নিকাশে বড় কোন প্রত্যাশা নেই হিরুর। নেই বিলাসী জীবনের স্বপ্ন। একমাত্র চাওয়া মমতাময়ী মায়ের মুখে যেন দু বেলা দু মুঠো খাবার তুলে দিতে পারেন। মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মধ্যেই খুজেঁ পান জীবনের সার্থকতা ও আত্বতৃপ্তি।
হিরুর দু চোখে আলো নেই, কিন্তু দায়িত্ববোধে আলোকিত তাঁর হৃদয়। যেখানে অনেকেই সামন্য বাধাায় থেমে যান, সেখানে দৃষ্টিহীন হিরু প্রতিদিন লড়ছেন জীবিকার কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে। তাঁর এই জীবনসংগ্রাম কেবল দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই নয়, বরং মায়ের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ আর অদম্য মনোবলের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
হিরুর জীবনের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়-মানুষের পথচলার শক্তি শুধু চোখের আলোতে নয়, অনেক সময় হৃদয়ের আলোতেই জ্বলে ওঠে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় প্রেরেণা।


