আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম সংক্রমণ। চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ১৮২ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর অর্থাৎ গত ৩৫ বছরের মধ্যে এক বছরে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড। আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগটিতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, চলতি বছরে হাম আক্রান্তদের মধ্যে ৫৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। মোট আক্রান্তের প্রায় ১১ শতাংশই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অঙ্গরাজ্যভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে পেনসিলভানিয়ায়। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগের শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৭ জন। এ সপ্তাহে হাম-সংশ্লিষ্ট ষষ্ঠ মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটি।
সংক্রমণের দিক থেকে পেনসিলভানিয়ার পরেই রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহ। সিডিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনায় ৬৭০ জন এবং ইউটাহতে ৫৩৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে উইসকনসিনে বৃহস্পতিবার হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে নিউইয়র্কে তিন দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তবে হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগ ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। সিডিসির হিসাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট চারটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। তবে কোন কোন অঙ্গরাজ্যে এসব মৃত্যু ঘটেছে, তা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।
স্বাস্থ্য বিভাগের মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের অধীনে সিডিসি এখন মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহে আগের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদন সরাসরি ব্যবহার না করে জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে দেশটিতে হাম-সংশ্লিষ্ট তিনটি মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল সংস্থাটি।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এ বয়সী আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৩২। অন্যদিকে ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ১০৪ জন। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৯০৮টি সংক্রমণ।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে ৪৩টি হাম প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে।
এদিকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হাম নির্মূলের স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ২০০০ সাল থেকে দেশটি হাম নির্মূলের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ কমিশন এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো হাম নির্মূলের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করছে কি না।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাছে পরিস্থিতিটি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি সংক্রামক রোগের এমন বিস্তার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ১৮২ জনে পৌঁছেছে। ১৯৯১ সালের পর গত ৩৫ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক সংক্রমণের সংখ্যা। দেশজুড়ে সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি ঘটছে মৃত্যুর ঘটনাও।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম আক্রান্তদের মধ্যে ৫৬২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ১১ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) হালনাগাদ করা অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৮৭ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৭ জন। এ সপ্তাহে হাম-সংশ্লিষ্ট ষষ্ঠ মৃত্যুর ঘটনাও জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটি।
পেনসিলভানিয়ার পর সবচেয়ে বেশি হাম আক্রান্তের সংখ্যা সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহতে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাউথ ক্যারোলাইনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭০ এবং ইউটাহতে ৫৩৬।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উইসকনসিনে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো হাম-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
তবে হামজনিত মৃত্যু নিয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানে অমিল রয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাম-সংশ্লিষ্ট চারটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে। তবে মৃত্যুগুলো কোথায় ঘটেছে, তা জানায়নি সংস্থাটি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের অধীনে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র মৃত্যুর হিসাব রাখার পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। আগে অঙ্গরাজ্যগুলোর স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য ব্যবহার করা হলেও এখন জাতীয় স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান কেন্দ্রের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে হাম-সংশ্লিষ্ট তিনটি মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল সংস্থাটি।
বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। এ বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৩২। এ ছাড়া ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ২ হাজার ১০৪ জন এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৯০৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরে দেশজুড়ে নতুন করে ৪৩টি হাম সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হাম নির্মূলের স্বীকৃতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে দেশটি হাম নির্মূলের স্বীকৃতি ধরে রেখেছে। তবে আগামী সপ্তাহে প্যান আমেরিকান স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও হাম নির্মূলের শর্ত পূরণ করছে কি না।


