পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে আওয়ামী লীগ নেতা এ হাসান হিরণকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলায় জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় আলোচনায় আসেন। শনিবার রাতে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ হাসান হিরণ বালিপাড়া ইউনিয়ন আলীম মাদ্রাসার অফিস সহকারী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। তখন হিরণও মিষ্টি বিতরণে অংশ নেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে তিনটি মামলা হয়, যার কারণে তিনি পাঁচ মাস কারাগারে ছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সম্প্রতি আবার সক্রিয় হন তিনি।
শনিবার রাতে ঘোষেরহাট বাজারে গেলে স্থানীয় জামায়াত-শিবির সমর্থকরা তাকে কৌশলে মিষ্টির দোকানে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে মিষ্টি খাওয়ানো হয়, পরে অতীতের ঘটনার কথা বলে গণপিটুনি দেওয়া হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
ইন্দুরকানী জামায়াতে ইসলামের আমির আলী হোসেন বলেন, “সাঈদীর রায়ের পর এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন হিরণ। স্থানীয়রা তাকে চিনে ফেললে মিষ্টি খাইয়ে পুলিশে দেন।”
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন জানান, এ হাসান হিরণকে বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।


