চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রামে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও হামজনিত অসুস্থতা। গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি এপ্রিল মাসেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ২৬টি শিশু। একই সাথে জেলাজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হাসপাতালের বর্তমান চিত্র ও রোগীর চাপ রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
শয্যায় সংকুলান না হওয়ায় হামের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ‘হাম কর্নার’ বড় করে মেডিসিন বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৮৮ জন শিশু হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে রোগী বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে এক শয্যায় একাধিক শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
মার্চের শেষ থেকে গত ৩৩ দিনে ৫৩৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। বিশেষ করে গত পাঁচ দিনে এই হার ছিল সর্বোচ্চ—প্রায় ১৭০ জন। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে আসার কারণেই সংক্রমণটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যা পরবর্তীতে মারাত্মক ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ার পথ প্রশস্ত করে।
সংক্রমণ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরজুড়ে জোরদার করা হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি।
লক্ষ্যমাত্রা: প্রায় ৭ লাখ শিশু ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধানদের মতে, অতিরিক্ত গরম এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের জরুরি পরামর্শসমূহ:
শিশুদের কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকতে দেবেন না।
শিশু ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে দিতে হবে, যাতে শরীরে বসে না যায়। ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম জাতীয় খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো। বাহিরে থেকে ঘেমে এসে সরাসরি এসির ঠান্ডা পরিবেশে প্রবেশ করা থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।
বর্তমানে চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ শিশু চিকিৎসাধীন থাকছে, যার একটি বড় অংশই শ্বাসকষ্ট ও সিজনাল জ্বরে আক্রান্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।


