সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতাঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত শিশু জান্নাতুল নাইমা ইরা হত্যাকাণ্ডে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গড়মিল ও বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
জানা যায়, গত ১ মার্চ গুরুতর আহত অবস্থায় ইরাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগে টানা দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২ মার্চ ভোর ৪টার দিকে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। নিষ্পাপ এই শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।
এদিকে, নির্ধারিত সময়েও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সীতাকুণ্ড সার্কেল কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “গত ০২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। আমি সারা দিন ঢাকায় ছিলাম, কিন্তু সেদিনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।”
অপরদিকে, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সারোয়ার হোসেন লাভলু অভিযোগ করে বলেন, “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিতে গড়মিল করছে। রিপোর্টটি প্রকাশ হলে আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।”
তার এমন বক্তব্যে মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত ইরার চাচা, সাংবাদিক রমিজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একজন গণমাধ্যমকর্মী হয়েও আমার ভাতিজির হত্যার বিচার পাচ্ছি না। তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাবে?”
অন্যদিকে, ইরার শোকাহত মা-বাবা এখনো আইনের প্রতি আস্থা রেখে মেয়ের হত্যার বিচারের অপেক্ষায় আছেন। প্রতিটি দিন তাদের কাছে যেন একেকটি দীর্ঘ যন্ত্রণার সময়। তাদের একটাই দাবি—দ্রুত রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এলাকাবাসীর মতে, এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে সমাজে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে। অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঘটাতে উৎসাহিত হবে। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি শিশুর হত্যার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় দীর্ঘসূত্রিতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারা অবিলম্বে শিশু ইরার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিশু ইরার মতো একটি নিষ্পাপ প্রাণের এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই অবহেলার মধ্যে পড়ে থাকতে পারে না। দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারই পারে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা প্রতিরোধ করতে।


