সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সমিতি–সীতাকুণ্ডের উদ্যোগে প্রথম সাধারণ সভা ও মিলনমেলা উৎসবমুখর, প্রাণবন্ত এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার ইপসা মানব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো পরিবেশ পরিণত হয় এক আবেগঘন পুনর্মিলনীতে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের একত্রিত হয়ে স্মৃতিচারণ, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। অনেকেই বলেন, শিক্ষকতা জীবনের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ আসলাম চৌধুরী। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের সমাজ গঠনের মূল কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একজন শিক্ষক কখনোই অবসর নেন না; তাঁদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও দিকনির্দেশনা সমাজ ও জাতি গঠনে আজীবন ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ, সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এ সমিতিকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. ফসিউল আলম। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষার্থী নয়, পুরো সমাজকে আলোকিত করেন। অবসর গ্রহণের পরও তাঁদের অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।
তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে সামাজিক উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্মের গঠনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সীতাকুণ্ডের বরেণ্য শিক্ষাবিদ নজির আহম্মদ। তিনি সমিতির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সংগঠিত ও সময়োপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতাকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ মিলনমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা হয় শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা, তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ সম্প্রসারণ নিয়ে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল আনন্দমুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় অনেক শিক্ষক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই প্রথম সাধারণ সভা ও মিলনমেলা সীতাকুণ্ডের শিক্ষা অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ সমিতি আরও বৃহৎ পরিসরে সমাজ ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


