সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
মো. তকিবুল হাসান চৌধুরী তর্কিকে সভাপতি এবং সরোয়ার হোসেন রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। কিন্তু এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে, বিশেষ করে সীতাকুণ্ডে ব্যাপক ক্ষোভ, হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা থেকে ২৩ জন এই কমিটিতে স্থান পেলেও, অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। এ বিষয়টি শুধু সাধারণ কর্মীদের মধ্যেই নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝেও গভীর হতাশা তৈরি করেছে।
আজ তৃণমূলের হাজারো কর্মীর একটাই প্রশ্ন—১৭ বছরের আন্দোলন, হামলা, মামলা, নির্যাতন, কারাবরণ, ঘরছাড়া জীবন, আর্থিক ক্ষতি ও পারিবারিক দুর্ভোগের মূল্য তাহলে কোথায়?
যারা দুঃসময়ে বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন, তারা জানেন একটি পতাকা বাঁচিয়ে রাখতে কতটা মূল্য দিতে হয়েছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে, পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছেন। তারপরও তারা আদর্শ থেকে সরে যাননি।
কিন্তু আজ সেই পরীক্ষিত ও ত্যাগী সৈনিকদের অনেকেই মূল্যায়নের বাইরে থেকে গেছেন। অন্যদিকে, যাদের নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সাবেক ছাত্রনেতা এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সহযোদ্ধারা প্রকাশ্যে তাদের ক্ষোভ, হতাশা ও আপত্তির কথা জানিয়েছেন।
একটি প্রশ্ন আজ উচ্চারিত হচ্ছে—যদি দুঃসময়ের কর্মীদেরই মূল্যায়ন না করা হয়, তাহলে আগামী দিনের কর্মীরা কী বার্তা পাবে?
রাজনীতি কি শুধুই সুসময়ের পরিচয়ের ওপর নির্ভর করবে? নাকি দুঃসময়ের ত্যাগ, আদর্শ ও সংগ্রামই হবে নেতৃত্বের প্রধান মানদণ্ড?
ছাত্রদল কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংগঠন নয়। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়ে ওঠা একটি সংগ্রামী ছাত্রসংগঠন, যার ইতিহাস রচিত হয়েছে ত্যাগ, সাহস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে।
তাই সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। সময় এসেছে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর শোনার। কারণ, তৃণমূলকে উপেক্ষা করে কখনোই একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান—এই কমিটি পুনর্মূল্যায়ন করুন। প্রকৃত ত্যাগী, পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করুন।
কারণ, পদ দেওয়া যায়, কিন্তু ত্যাগ তৈরি করা যায় না।
কারণ, সুযোগসন্ধানীরা সময় বদলালে অবস্থান বদলায়; কিন্তু ত্যাগীরা সবসময় পতাকার পাশে থাকে।
আমরা পদ চাই না, ত্যাগের মর্যাদা চাই।
আমরা বিতর্ক নয়, যোগ্যতার মূল্যায়ন চাই।
আমরা ব্যক্তির আধিপত্য নয়, আদর্শের নেতৃত্ব চাই।
ত্যাগীদের বঞ্চিত করলে সংগঠন দুর্বল হয়, আর ত্যাগীদের মূল্যায়ন করলে সংগঠন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে।


