সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
দ্য ডেইলি স্টার-প্রাইম ব্যাংক কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা পেয়েছেন চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী এবং পিএইচপি ফ্যামিলির অন্যতম সদস্য নুমায়ের মিজান আমির। ‘ও’ ও ‘এ’ লেভেলে অসাধারণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে আয়োজিত ২৫তম দ্য ডেইলি স্টার-প্রাইম ব্যাংক কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে নুমায়ের মিজান আমিরের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল “Saluting the Nation Builders of Tomorrow”—অর্থাৎ “আগামীর দেশ গড়ার কারিগরদের অভিবাদন।”
অনুষ্ঠানে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফয়সাল রহমান, বাংলাদেশে আইডিপি এডুকেশন লিমিটেডের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজিব মাহবুবুলসহ শিক্ষা, করপোরেট ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এ বছর দেশের ১২১টি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ের মোট ২,৫৪৫ জন শিক্ষার্থীকে কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১,৯২৮ জন ‘ও’ লেভেল এবং ৬১৭ জন ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থী। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ‘ও’ লেভেলে বিশ্বসেরা ৮৪ জন, বাংলাদেশে প্রথম হওয়া ৪২ জন এবং ‘এ’ লেভেলে বিশ্বসেরা ৯ জন ও দেশে প্রথম হওয়া ২৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, “এখানে উপস্থিত প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের অর্জন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে এবং আপনারা বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বদরবারে আরও উজ্জ্বল করবেন।” বক্তব্য শেষে তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, নিজের দেশকে কখনো ভুলে যাবেন না। আপনারা বিশ্বের নাগরিক হবেন, কিন্তু বাংলাদেশের প্রতি দায়িত্ববোধ সবসময় ধারণ করবেন। গত ২৫ বছরে এই আয়োজনের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করেছি, তাদের অনেকেই আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং বাংলাদেশের গৌরব বৃদ্ধি করছেন।” তিনি আরও বলেন, “আপনাদের বাবা-মা, শিক্ষক এবং দেশ আপনাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাই ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নেও আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবায় একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিল্পপতি ও পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং নুমায়ের মিজান আমিরের পিতা আমির হোসেন সোহেল।
সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করে নুমায়ের মিজান আমির বলেন, “এমন সম্মানজনক পুরস্কার পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। আমি বড় হয়ে দেশের জন্য কাজ করতে চাই এবং দেশের সেবায় নিজের সর্বোচ্চটা উৎসর্গ করতে চাই। পাশাপাশি পিএইচপি ফ্যামিলিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে চাই।”
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জ্ঞান, মেধা ও সৃজনশীলতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হয়।


