সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমিরা আবাসিক বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক অসঙ্গতি ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত চলাকালে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান অধ্যক্ষকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এলাকাবাসী, সাবেক শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধন প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, অভিভাবক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক প্রতিনিধি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদান নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। সেই প্রতিষ্ঠানে যদি আর্থিক অনিয়ম, হিসাব সংরক্ষণে অসঙ্গতি কিংবা প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তবে তা শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনামই ক্ষুণ্ন করে না, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে নষ্ট করে। তাই অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও সেগুলোর কার্যকর সমাধান বা তদন্তের উদ্যোগ দেখা যায়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত অডিট প্রতিবেদনে আর্থিক অসঙ্গতি, হিসাব সংরক্ষণে ত্রুটি এবং প্রশাসনিক অনিয়মের যেসব বিষয় উঠে এসেছে, তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় তদন্তের স্বার্থে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান অধ্যক্ষকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব নয়, বরং আইন, নীতি ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং নির্দোষ ব্যক্তি যেমন সম্মান ফিরে পাবেন, তেমনি দোষীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আর্থিক নিরীক্ষা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের কার্যকর তদারকি, পরিচালনা পর্ষদের সক্রিয় ভূমিকা এবং সরকারি নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অবিলম্বে গ্রহণ করতে হবে।


