সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশিতা দাশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত ঈশিতা দাশ সীতাকুণ্ডের কাজীপাড়া শিশু নিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একটি বেপরোয়া অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় ঈশিতা। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঈশিতাকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা
ঈশিতা দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তাকে বাঁচানোর জন্য পরিবার ও স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে আসে। শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় বহনে সহযোগিতার জন্য অনেকেই আর্থিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ান। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ঈশিতার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও সহায়তার চেষ্টা চালানো হয়।
একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন বাঁচাতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন যার মতো করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন পরিবারও আশায় বুক বেঁধেছিল—চিকিৎসা শেষে ঈশিতা আবার সুস্থ হয়ে ফিরবে।
কিন্তু দীর্ঘ এক মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে ঈশিতা।
এই মৃত্যুর দায় কার?
ঈশিতার করুণ মৃত্যু আবারও সামনে নিয়ে এসেছে সড়কে বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচলের বিষয়টি। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক অটোরিকশা নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করায় পথচারী ও স্কুলগামী শিশুদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে চলতে হচ্ছে।
একটি শিশুর জীবন থেমে গেল। একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে গেল। কিন্তু প্রশ্ন থেকে গেল—এই ধরনের আর কত দুর্ঘটনার পর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
আর কত ঈশিতার প্রাণ ঝরবে? আর কত নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুতে মায়ের বুক খালি হবে?
একজন মায়ের কাছে তার সন্তানই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন যখন সড়কের বেপরোয়া গতির কাছে থেমে যায়, তখন শুধু একটি পরিবার নয়—পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়।
আজ ঈশিতা নেই। তার সহপাঠীরা আর তাকে স্কুলের বেঞ্চে দেখতে পাবে না, শিক্ষকরা আর তার মুখে ডাক শুনবেন না। আর তার মা-বাবার জীবনে তৈরি হয়েছে এমন এক শূন্যতা, যা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঈশিতার মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী অটোরিকশাটি শনাক্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সড়কে অবৈধ, বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়—এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


