কক্সবাজার সংবাদদাতাঃ
কক্সবাজার জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ আজ ২১ জানুয়ারি (বুধবার) শুরু হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে। সকালে কক্সবাজার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীর সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসানুর রশিদ, পাঠাগার ও মিলনায়তন সম্পাদক আনছার হোসেন এবং সদস্য মোহাম্মদ হাসিম।
অন্যদের মধ্যে ছিলেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি এম আর মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক এস, এম জাফর ও যুগ্ম সম্পাদক ছৈয়দ আলম।
বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচন সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা জনগণের অনির্বাচিত প্রতিনিধি। নাগরিকের চেয়ে তারা একটু বেশিই জানেন। নির্বাচনের সাংবাদিকরা ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারেন।
তারা আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সাংবাদিকরা সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে তথ্যাদী সংগ্রহ এবং সেগুলো নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরতে পারেন। ভুল থেকে তারা শিক্ষা নিতে পারেন।
আলোচকরা আরো বলেন, সাংবাদিকরা লেখনীর মাধ্যমে আধা বিচারিক ব্যবস্থা জাতির কাছে তুলে ধরেন। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে গণতন্ত্র থাকে না। আর গণতন্ত্র না থাকলে সাংবাদিকদের কাজই থাকে না। এখন হোন্ডা দিয়ে গুন্ডা এনে ঠান্ডা করে নির্বাচনের দিন শেষ বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক ও মতামত লেখক খাজা মাঈন উদ্দিন।
তিনি বলেন, নির্বাচনে মিস ও ডিস ইনফরমেশন দুটোই ক্ষতিকর। তাই নির্বাচনকালীন গুজব/ অপপ্রচারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। মিথ্যার সাথে কম্প্রোমাইজ করা যাবে না।
তার মতে সাংবাদিকরা হচ্ছেন সত্যের প্রচারক। তিনি উল্লেখ করেন, সবসময় মেজরিটি যে সত্য হবে এমন নয়। তিনি সাংবাদিকদের নৈতিকভাবে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণার আহ্বান জানান।
বলেন, স্বাধীনতারও সীমাবদ্ধতা আছে। জুলাই না হলে বর্তমান সরকারের মতো সরকার গঠিত হতো না। জুলাই হলো জনগণের সীল না মারা ম্যাণ্ডেট।জনগণের বিপ্লবও আরেক ধরনের ম্যাণ্ডেট।
তিনি মন্তব্য করেন, সাংবাদিকদের শহীদ হবার দরকার নেই। ইলেকশন ভন্ডুল করা হতে পারে। তাই ফলাফল সংগ্রহে সতর্ক থাকতে হবে। সাংবাদিকরা যে কোনো বক্তার বক্তব্যকে পূর্ণতা দেন।
প্রথম দিনে জূলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এআই ভেরিফিকেশন এবং ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি, গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা, কৌশল এবং দক্ষতা উন্নয়ন, নির্বাচনকালে গণমাধ্যমকর্মীর শারীরিক ও
ডিজিটাল নিরাপত্তা, নির্বাচন রিপোর্টিং, ভুয়া তথ্য, অপতথ্য, ভুয়া সংবাদ, হেটস্পিচ, গুজব, প্রোপাগান্ডা ইত্যাদি মোকাবেলার গুরুত্ব ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে ধারণা দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ের রিসোর্সপার্সন ছিলেন সাংবাদিক ও মতামত লেখক খাজা মাঈন উদ্দিন। প্রশিক্ষণে পৃথক ব্যাচ ও ভেন্যুতে জেলা ও উপজেলার ১শত জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধন ও সেশন চলাকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


